Projects

উস্তাদ, বাঁয়ে প্লাস্টিক, ডানে প্লাস্টিক

জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে শালা নেইবরহুড আর্ট স্পেস এর তিনমাসব্যপী গবেষণা এবং সৃজনশীল শিল্প প্রদর্শনী

শালা নেইবরহুড আর্ট স্পেস তার প্রতিবেশী এলাকা সমূহে জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে জানাশোনা বাড়াতে তিন মাসব্যাপী তাদের নানা কর্মসূচী পালন করেছে। এর মধ্যে ছিল চলচ্চিত্র দেখা ও তার পরবর্তী আলোচনা, বিশেষজ্ঞ মতামত, ওয়ার্কশপ, প্রতিবেশী ম্যাপচিত্র বানানো, চলচ্চিত্র নির্মাণ, আলোকচিত্র এবং উস্তাদ বায়ে প্লাস্টিক, ডানে প্লস্টিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী।


দীর্ঘসময়ব্যাপী  শালার গবেষণা দল এবং তার ফেলোস’রা জলবায়ু ন্যায়বিচার, নগরের জনপরিষর, প্রতিবেশী এলাকার সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশগত পরিবর্তন সহ নানা গবেষণা ও তার সৃজনশীল প্রকাশ নিয়ে কাজ করে আসছে, গত ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস এর থিম Beat Plastic Pollution (প্লাস্টিক দূষণকে হারিয়ে দেই)  এর সাথে মিল রেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম শুধুমাত্র প্লাস্টিক দূষণকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী এলাকায় জলবায়ু বা পরিবেশগত ন্যায্যতা নিয়ে আমরা একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করব এবং তার সৃজনশীল বহি:প্রকাশের মাধ্যমে একটি শিল্পকর্ম প্রদর্শনী করব।


আমরা শালা টিম আমাদের প্রতিবেশী এলাকার কমিউনিটি কানেক্টরদের আমাদের পরিকল্পনা শেয়ার করলাম। তারা সানন্দে রাজী হয়ে গেল। আমরা কাজ শুরু করলাম।


শালা’র দুইটা নিয়মিত কার্যক্রম, ফিল্মি শালা এবং গল্পের শালা, এর মাধ্যমে আমরা মাঠে নামলাম। প্রথমেই আমরা গল্পের শালাতে আমন্ত্রন জানালাম বাংলাদেশ এনভাইরনমেন্টাল লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা) এর আইনী গবেষক বারীশ হাসান চৌধুরীকে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে আলোচনা করতে। আলোচনার আগে আমরা দেখলাম, বেলার নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্লাস্টিক রিভার: ঢাকা’স ইনফরমাল ওয়েস্ট ইকোনমি (২০২৪)। চলচ্চিত্রটিতে দেখলাম, ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে কামরাঙ্গীরচরে কীভাবে প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো পুন:ব্যবহারের জন্য অপরিকল্পিত এবং বৈধ পদ্ধতি ছাড়া প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে নদীগুলো প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরে যাচ্ছে এবং প্রকৃতির বাস্তুতন্ত্রে আঘাত হানছে। আমরা জানতে পারি যে, বাংলাদেশের প্লাস্টিক বর্জ্যের প্রায় ১২ শতাংশই নদীতে গিয়ে পড়ছে। তবে সবচেয়ে মজার তথ্য জানতে পারলাম, বারীশ এর কাছ থেকে, যে প্লাস্টিক তৈরী হয় তেল এবং গ্যাস থেকে। এবং আমরা এও জানলাম যে, উৎপাদন না কমিয়ে বা বন্ধ না করে প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো প্রায় অসম্ভব।


আপনারা মানব-পাচার, সোনা পাচার, মাদক পাচার প্রভৃতির কথা শুনে থাকতে পারেন, কখনো কি প্লাস্টিক বর্জ্য পাচার এর কথা শুনেছেন?


আমরা আমাদের চারপাশের সবকিছুকেই প্লাস্টিক মোড়ানো হিসেবে পাই। কিন্তু একটা জিনিস জানিয়ে রাখা ভালো, এর প্রায় কোনটাই প্লাস্টিক পুন:ব্যবহারের পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদিত নয়। বরং এসব তৈরীতে প্রতিনিয়ত নতুন তেল-গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। তাহলে আমরা যে প্লাস্টিক ব্যবহার করছি এসব কোথায় যাচ্ছে?


১৯৯০ সাল। ইউরোপের বেশ কিছু দেশ একটা ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেল- আবর্জনা সমস্যা। ল্যান্ডফিলগুলো ভরে গেছে। তাহলে উপায়? তখন তারা প্লাস্টিক, কাগজ এবং ধাতব জিনিসগুলি আলাদা আলাদা বাক্সে সংগ্রহ করতে শুরু করল যাতে করে সেগুলোকে বারবার ব্যবহার উপযোগী করা যায়। কিন্তু দেখা গেল যে, কাগজ এবং ধাতব জিনিসগুলি যতটা সহজে অন্য প্রোডাক্ট তৈরীতে ব্যবহার করা যায় প্লাস্টিক থেকে ততটা করা যায় না এবং খরচ অনেক বেশি যা থেকে নতুন প্লাস্টিক উৎপাদন সহজ। এ থেকে যে প্রোডাক্ট তৈরী হচ্ছে সেগুলো ও নিম্নমানের। তারপরও সব প্লাস্টিক পুন:ব্যবহার করা যাচেছ না- মাত্র ২ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে যে, ৭০ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্যই ল্যান্ডফিলে চলে যাচ্ছে বা কোনভাবে পোড়ানো হচ্ছে বা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে যা থেকে পরিবেশে নির্গত হচ্ছে ক্ষতিকর কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্যাস। কাজেই প্লাস্টিক প্যাকেটগুলো কোনভাবেই মূল্যবান কাঁচামাল নয়, যা কোম্পানিগুলি বলতে চায়, বরং একটি সমস্যা যা থেকে সবাই মুক্ত হতে চায়। এর থেকে মুক্ত হতে, ইউরোপ একটা পথ বের করেছে। তারা তাদের প্লাস্টিক প্যাকেটজাত বর্জ্যগুলি চীনে পাঠানো শুরু করল। ভালোই চলছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে চীন সেগুলো নেয়া বন্ধ করল। তখন-ই প্লাস্টিক প্যাকেটজাত বর্জ্য পাচারে একটি চক্র গড়ে উঠল যারা এসব প্লাস্টিক প্যাকেটের জন্য জায়গা খুঁজে দিত এবং সেগুলিকে বিনা বাধায় কাস্টমস পার করতে সহায়তা করত। এই চক্র তখন প্লাস্টিক প্যাকেটজাত বর্জ্যগুলিকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন- ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া এবং তুরস্কে পাচার শুরু করল । যখন তারা এসব দেশেও বাধার মুখে পড়ল, তখন দেখা গেল বুলগেরিয়া প্লাস্টিক প্যাকেটজাত বর্জ্য পাচারের একটি বড় গন্তব্য হয়ে উঠছে।


যুক্তরাজ্যের অ্যালিসন হার্ডিং একজন টেরাসাইকেল কোম্পানির ভলান্টিয়ার যিনি তার এলাকা এবং আশেপাশের এলাকা থেকে প্লাস্টিকবর্জ্যগুলো বিভিন্ন ভাগে সংগ্রহ এবং প্যাকেট করেন টেরাসাইকেলকে পাঠানোর জন্য। টেরাসাইকেল একটি আমেরিকান কোম্পানি যারা সকল প্রকার প্লাস্টিককে পুন:ব্যবহার যোগ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং তাদের লোগো কোম্পানিগুলিকে ব্যবহার করতে দেয়। এতে করে সেই কোম্পানিগুলি দায়মুক্তি নেয় যে তাদের প্লাস্টিক পরিবেশে গিয়ে পড়ছে না বরং টেরাসােইকেল এর মাধ্যমে পুন:ব্যবহার হয়ে নতুন ভাবে ফিরে আসছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে, অ্যালিসন এর প্লাস্টিক প্যাকেটগুলো, যেগুলো তিনি সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তুলতে টেরাসাইকেল এর জন্য বিনা পারিশ্রমিকে করছেন, পাওয়া গেছে বুলগেরিয়ার একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরির জ্বালানী উপকরণ হিসেবে। কথা ছিল এগুলো রিসাইকেল হবে যুক্তরাজ্যে কিন্তু সেগুলো পোড়ানোর জন্য নেয়া হয়েছে বুলগেরিয়ায়।  তবে তার চেয়েও ভয়ংকর তথ্য এই যে, যখন কোম্পানিগুলি বলছে যে তারা তাদের প্যাকেটগুলি রিসাইকেল করছে, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তারা দিনকে দিন প্লাস্টিক উৎপাদনের জন্য তেল-গ্যাস উত্তোলন বাড়াচ্ছে। এটা ধারনা করা হয় যে, ২০৫০ সালের মধ্যে মোট তেল উৎপাদনের ২০ শতাংশ ব্যবহার হবে প্লাস্টিক জাত প্যাকেট তৈরীতে। এসব আমরা জানলাম দি রিসািইক্লিং মিথ’ (২০২২) এর মাধ্যমে। ডকুমেন্টারিটি আলোচনা করে প্লাস্টিক ওয়েস্ট ট্রাফিকিং বা প্লাস্টিক বর্জ্য পাচার এবং রিসাইক্লিং বা পুন:ব্যবহার এর সীমাবদ্ধতা নিয়ে। সেখানে আরো দেখানো হয়েছে, ধনী দেশগুলো যাও মোকাবিলা করতে পারছে, গরীব অন্যান্য দেশগুলো তা একেবারেই পারছে না যার ফলশ্রুতিতে প্লাস্টিক বর্জ্য সব পরিবেশে গিয়ে পড়ছে।


আমাদের ফিল্মি শালা এবং গল্পের শালা ছিল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং বিনামূল্যে, যেখানে আমাদের কমিউনিটি কানেক্টররা বাদেও তাদের বন্ধু বান্ধব এবং বেশ কিছু দর্শক ছবিগুলো দেখে এবং তা নিয়ে জানতে পারে। ছবিগুলি দেখতে আমন্ত্রন জানাতে আমরা প্রতিবেশি এলাকায় কাগজের পোস্টার লাগাই এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক গ্রুপগুলোতে গিয়ে আমন্ত্রন জানাই।


এরপর আমরা দেখি দ্য স্টোরি অব প্লাস্টিক (২০১৯) ।


যখনই প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে কথা হয় তখন আমরা কী দেখতে পায়? আমরা শুধু দেখতে পাই কীভাবে প্লাস্টিক নদী-নালা বা প্রকৃতিকে দূষিত করছে। কিন্তু প্লাস্টিক কীভাবে তৈরী হয় বা কি কারণে পরিবেশে গিয়ে পড়ছে তা  কখনও কি দেখেছেন? যদি দেখেও থাকেন, তার পরিমাণ অনেক কম। আগেই বলা হয়েছে- প্লাস্টিক তৈরী হয় তেল-গ্যাস এর মত জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে এবং যেসকল কোম্পানি তেল বিক্রি করে তারাই প্লাস্টিক উৎপাদন করে। তেল উৎপাদনের সময় একধরনের উপজাত বর্জ্য উৎপন্ন হয়, সেখান থেকেই প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতে প্লাস্টিক প্যাকেটগুলোর ৩২ শতাংশ পরিবেশে গিয়ে পড়ছে, ৪০ শতাংশ কোন না কোন ল্যান্ডফিলে গিয়ে পড়ছে, ১৪ শতাংশ পোড়ানো হচ্ছে আর মাত্র ১৪ শতাংশ পুন:ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, মাত্র ২ শতাংশ সঠিকভাবে পুন:ব্যবহারের জন্য প্র্রস্তুত করা যাচ্ছে, বাকি ১২ শতাংশই যা ছিল তার থেকে নিম্নমানের বস্তুতে রুপান্তরিত হচ্ছে। এবং সেগুলোও কয়েকবারের বেশি পুন:ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় নেয়া হচ্ছে না যার ফলশ্রুতিতে তারাও ল্যান্ডফিল, চুল্লী বা পরিবেশেই গিয়ে পড়ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে শুরু করে আরো অনেক জায়গায় প্লাস্টিক থেকে অনেক কিছুই হচ্ছে যেগুলি খুব প্রয়োজনীয়, কিন্তু প্লাস্টিকের এই সমস্যা তৈরী করছে একবার ব্যবহারযোগ্য প্যাকেটগুলি যার খেসারত দিচ্ছে শুধু প্রকৃতি না প্রান্তিক মানুষগুলোও যাদের জীবনধারণ এবং বসবাসে এই প্লাস্টিক প্যাকেটগুলো সরাসরি সমস্যা তৈরী করছে। এবং আরো ভয়ংকর ব্যাপার এই যে, যেখানে বড় বড় কোম্পানিগুলি ইউরোপ এবং অন্যান্য দেশে পুন:ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, তারা এশিয়াসহ গ্লোবাল সাউথ এর অন্যান্য দেশে বাজার বাড়াচ্ছে শুধুমাত্র একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক প্যাকেট এর মাধ্যমে যেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই এবং তারা সেইসব অবকাঠামো নির্মাণেও কোন প্রকার সহযোগিতা করছে না। একদিকে এশিয়ার দেশগুলিতে কোম্পানিগুলি পুন:ব্যবহার অযোগ্য প্লাস্টিক প্যাকেট এ বিক্রি বাড়াচ্ছে আর একদিকে ইউরোপ- আমেরিকা থেকে প্লাস্টিক প্যাকেটজাত বর্জ্য আসতেছে,  ফলশ্রুতিতে, এশিয়ার নদী এবং সমুদ্র উপকূলগুলো প্লাস্টিকে ভরে যাচ্ছে। এবং প্লাস্টিক পুড়িয়ে বা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে শুধু যে ক্ষতিকর গ্রীনহাউজ বা কার্বন-ডাই অক্সাইড নি:সরণ করছে শুধু তা নয়, তা বায়ুদূষণ এবং অন্যান্য রোগ সৃষ্টি করছে। এটা শুধু প্লাস্টিক যে জায়গাতে গিয়ে পড়ছে, বা যে জায়গাতে গিয়ে পুড়ছে সেখানে সমস্যা করছে না, যেখানে উৎপাদিত হচ্ছে সেখানেও মানুষ নানা ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতায় পড়ছে। প্লাস্টিক ব্যবহার কিন্তু চাহিদা থেকে হয় না, বরং হয় যোগান থেকে। তাই তো তেল কোম্পানিগুলো যখন তাদের তেল ব্যবহার কমে যাচ্ছে তখন তারা প্লাস্টিক উৎপাদন বাড়াচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রে মাছের চেয়ে প্লাস্টিক বেশী হবে। এবং আমরা মানুষেরাও খাবারের সাথে, বায়ুর সাথে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে নিচ্ছি যেখান থেকে নানা ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতায় পড়ছি। এসবই আমরা জেনেছি স্টোরি অব প্লাস্টিক ডকুমেন্টারি থেকে। ডকুমেন্টারিটিতে আমরা আরো জেনেছি যে, উৎপাদকদেরকেই তাদের প্লাস্টিক ফিরিয়ে নিতে বা সরকার কে সহযোগিতা করতে হবে প্লাস্টিক দূষণকে মোকাবিলায় এবং বায়ো-ডিগ্রেডেবল বা বায়ো-বেসড প্লাস্টিক যেগুলো বায়ো-ডিগ্রেডেবল সেগুলোর দিকে আমাদের মনযোগ দিতে হবে এবং তখন সত্যিই সত্যিই একটি প্লাস্টিক বর্জ্যমুক্ত সার্কুলার ইকোনমির দিকে আমরা এগিয়ে যাব।


এরপর আমরা দেখি অ্যালবাট্রস (২০১৭).


উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের মিডওয়ে আইল্যান্ড। এখানে বসবাস করে আলবাট্রস পাখিরা। তো, এখানে গিয়ে দেখা গেল, আলবাট্রস পাখিগুলো অস্বাভাবিকভাবে মারা যাচ্ছে। কেন মারা যাচ্ছে? পাখিদের পেট কেটে দেখা গেল- প্লাস্টিক খাওয়ার কারণে পাখিগুলো মারা যাচ্ছে। তো এরা প্লাস্টিক খেল কীভাবে? একে তো মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারের সাথে মিশে থাকে তার ওপর আলবাট্রসরা অনেকসময় সমুদ্র থেকে খাবার মনে করে প্লাস্টিক নিয়ে আসে এবং তাদের বাচ্চাদের খাইয়ে দেয়। আর এসব কারণেই আলবাট্রসরা অকালে মারা যাচ্ছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আমরা জানতে পারি অ্যালবাট্রস এর মাধ্যমে। আমরাও কিন্তু খাচ্ছি মাইক্রোপ্লাস্টিক। কাজেই আমাদের ও অবস্থা হবে অ্যালবাট্রসদের মত। তাই সময় থাকতে পৃথিবীত থেকে প্লাস্টিক সরিয়ে ফেলতে হবে।


এসব চলচ্চিত্র দেখা ও তার পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে আমরা এভাবে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে জানাশোনা বাড়াই এবং এরপর আমরা আমাদের প্রতিবেশী এলাকার ম্যাপ বানানোতে হাত দিই যেখানে আমরা প্লাস্টিক দূষনের হটস্পটগুলো চিহ্নিত করি।


কমিউনিটি মাইন্ড-ম্যাপিং: নিকেতন বাজার গেট এবং সাততলায় বর্জ্যের হটস্পট চিহ্নিতকরণ

এলাকার বাসিন্দাদের তৈরি করা মানচিত্রে সাততলা, নিকেতন বাজার, আইপিএইচ (জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট), আইডিএইচ (সংক্রামক রোগ হাসপাতাল) এবং টিবি গেট রোড এলাকার কাছাকাছি কোথায় কোথায় বর্জ্য ফেলা হয় তা দেখা যায়।

ওয়ার্কশপের শুরুতে অংশগ্রহণকারীরা মানচিত্রে তাদের পরিচিত জায়গাগুলো চিহ্নিত করেন—যেমন বাড়ি, স্কুল/কর্মস্থল, খেলার মাঠ, আড্ডার জায়গা, বাজার ও হাসপাতাল। তারপর তারা পাড়ার যেসব জায়গায় আবর্জনা জমে থাকে সেগুলোও চিহ্নিত করেন।

মানচিত্রে দেখা যায় বর্জ্যের (মূলত প্লাস্টিক) উৎস হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনের জিনিস—বাড়িঘর, দোকানপাট, এমনকি হাসপাতালও। সবচেয়ে বড় বড় আবর্জনার স্তূপ পাওয়া যায় সেসব জায়গায় যেখানে মানুষ জড়ো হয় বা শান্তির জন্য যায়—কিন্তু সেগুলো সময়ের পরিক্রমায় প্লাস্টিকে ভরে গেছে।

অংশগ্রহণকারীরা মানচিত্রে ব্যক্তিগত স্মৃতি আর স্থানীয় গল্পও যুক্ত করেছেন, যেখানে তারা দেখান যে তাদের জীবন কতটা এই দূষণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মাইন্ড ম্যাপিং এ অংশগ্রহণ করেছেন মোসা: চাঁদনী আক্তার,রিশান আহমেদ শায়ন, সালমান হাওলাদার, শান্তা ইসলাম, সুরাইয়া আক্তার এবং ইয়াসিন।


প্লাস্টিক হটস্পট সহ প্রতিবেশী মানচিত্র এবং প্রদর্শনীর সময় দর্শনার্থীরা তা দেখছেন। ফটো- শালা

প্রতিবেশী এলাকার বর্জ্যের ধরণ ও চক্র

অংশগ্রহণকারীরা উপলব্ধি করেছেন যে তাদের এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো প্লাস্টিক বর্জ্য।

তারা বলেছেন—আমাদের বাড়ি, স্কুল আর খেলার মাঠ প্রায়শই আবর্জনার স্তূপের পাশে থাকে। এতে দুর্গন্ধ, ড্রেন আটকে রাস্তা জলাবদ্ধ হওয়া ইত্যাদি সমস্যার সৃষ্টি হয়।

অনেকে মনে করেছেন আগে এমনটা ছিল না—দশ বছর আগে এখানে প্রকৃতির ছোঁয়া পাওয়া যেত। কিন্তু নগরায়ণের ফলে এলাকা বদলে গেছে। এজন্য তারা ভবিষ্যতে এই সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজতে সবার মতামত এবং সহযোগীতা আশা করেছেন।

অংশগ্রহণকারীদের মতে বর্জ্যের প্রধান জায়গাগুলো

১. লাকি খান মসজিদ–নিকেতন বাজারের মাঝে: বাসাবাড়ির বর্জ্য।
২. মহাখালী দক্ষিণ পাড়া মসজিদ–বাজারের পাশে: নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা সাইনবোর্ড থাকা সত্ত্বেও বর্জ্য ফেলা হয়। স্থানীয়দের মাঝে একটা কথা প্রচলিত আছে যে এখানে নাকি ভূত আছে, তাই আবর্জনা দিলে ভূত দূরে থাকে।
৩. ডিএনসিসি হাসপাতালের পাশে: চিকিৎসাবর্জ্য (প্লাস্টিক, ওষুধের প্যাকেট, তেল জাতীয় বর্জ্য)।
৪. আইডিএইচ মসজিদের আশেপাশে: আগে এখানে শাকসবজি চাষ হতো, এখন দোকান আর তাদের বর্জ্য। জায়গাটি মাঝে মাঝে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সাহায্যে অর্থের বিনিময়ে পরিষ্কার করানো হয়।
৫. আইডিএইচের সামনে: চিকিৎসাবর্জ্য (সার্জিক্যাল আইটেম), মাঝে মাঝে এগুলো পোড়ানোও হয়।
৬. বিএমআরসি ভবনের পাশে: বাসাবাড়ি ও নর্দমার বর্জ্য।
৭. ঘোড়ার মাঠের চারপাশে: দোকানদাররা জায়গা দখল করতে জিনিসপত্র ফেলে রাখে।
৮. আইপিএইচ পুকুরের পাশে: সাততোলা ও দক্ষিণ পাড়া বাজারের বর্জ্য এখানে ফেলা হয়। আগে পুকুরে ফেলা হতো, এখন রাস্তার পাশে ফেলা হয়।
৯. আইপিএইচ থেকে মহাখালী রোড: বিপজ্জনক চিকিৎসাবর্জ্য—বয়স্ক মহিলারা এখান থেকে স্যালাইন পাইপ, সিরিঞ্জ কুড়িয়ে নেয়।
১০. তেজগাঁও ডাম্প জোন: ডিএনসিসি এখানকার বাজারের সব বর্জ্য এনে ফেলে।

জলাবদ্ধতার জায়গা (গোলাপি স্টিকারে চিহ্নিত):
মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, মহাখালী ওয়্যারলেস রোড, আইএইচটি, আইপিএইচ মসজিদ, বিএমআরসি আশেপাশের রাস্তায় প্রায়ই বর্জ্যের কারণে পানি জমে।

জিন (Zine) 

শালা_নেইবারহুড আর্ট স্পেসের একটি গবেষণা উদ্দেশ্য হলো তার প্রতিবেশী এলাকার জলবায়ু ন্যায় বিচার নিয়ে জানা এবং বৃহত্তর সমাজে সেই জ্ঞান তুলে ধরা। পারষ্পরিক গবেষণার অংশ হিসেবে আমরা প্রতিবেশী এলাকার কিশোরী-কিশোরদের নিয়ে দু’দিন ব্যাপী জিন (Zine) তৈরীর কর্মশালা আয়োজন করি। প্রথম দিন তাদেরকে জিন (Zine) বানানোর পদ্ধতি, উদ্দেশ্য শেখানো হয়। পরবর্তীতে তারা নিজেদের বর্ণনা করে জিন তৈরী করে।  দ্বিতীয় দিন তারা বৈশ্বিক ও স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু ন্যায় বিচার সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি, অভিমত ব্যক্ত করে প্রত্যেকে একটি করে জিন (Zine) তৈরী করে। জিনগুলো বানানোর পর আমরা একবার তাৎক্ষণিকভাবে শালার সামনে একটা প্রদর্শনী করি। এসব জিন আমরা আবার আমাদের প্রধান প্রদর্শনী উস্তাদ বাঁয়ে প্লাস্টিক ডানে প্লাস্টিক এ ও প্রদর্শন করি।জিন (zine) গুলো প্রদর্শনীতে দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে। ফটো- শালা


বুকলেট 

শালার চলমান গবেষণার অংশ হিসেবে কমিউনিটি কানেক্টরদের উপস্থিতিতে বৈশ্বিক জাতীয় জলবায়ু সংকট নিয়ে বেশ কিছু আলাপ ও চলচ্চিত্র প্রদর্শণীর আয়োজন করা হয়েছিল। জলবায়ু ন্যায়বিচারও প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে তাদের বিস্তারিত মতামত, মন্তব্য, বিভিন্ন সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কাটিং কোলাজ করে একটি বুকলেট তৈরী করা হয়। বুকলেটে একটি খালি পাতা ও  রাখা হয়, যেখানে উস্তাদ বাঁয়ে প্লাস্টিক ডানে প্লাস্টিক প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীদের “জলবায়ু সঙ্কট মোকাবেলায় আমার কি করনীয়” বিষয়ে মন্তব্য জানানোর সুযোগ রাখা হয়। 


আলোকচিত্রের মাধ্যমে দূষণকে বোঝা

আইপিএইচ পুকুর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং আইসিডিডিআরবি সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত। শালা নেইবারহুড আর্ট স্পেসের কমিউনিটি কানেক্টররা এই পুকুরের আশেপাশে আড্ডা দেন, খেলেন, এবং অনেকেই এর আশেপোশে বসবাস করেন। পুকুর সংলগ্ন কলোনির মানুষজন এই জলাশয় ব্যবহার করেন। 


শালা টিম কমিউনিটি কানেকটরদের সাথে এই পুকুরের প্লাস্টিক দূষণ বোঝার চেষ্টা করেছে।  ছবিগুলো তুলেছেন- ইয়াসিন, চাঁদনী আক্তার, সালমান হাওলাদার এবং সুরাইয়া আক্তার।


ছবিগুলো উস্তাদ বাঁয়ে প্লাস্টিক ডানে প্লাস্টিক প্রদর্শনীর সময় দর্শকদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে । ফটো- শালা


পুকুরকে ঘিরে তাদের স্মৃতি, ভাবনা বর্ণনা করে তারা লেখাগুলো লিখেছেন: (সংক্ষেপিত)

ইয়াসিন

আই পি এইচ পুকুর পাড় বিষয়ে অনেক কিছু জানি। পুকুর পাড় আগে অনেক ভালো ছিল কিন্তু কিছু মানুষ পানি তে ময়লা ফেলা শুরু করে। এক জন থেকে আরো দশ জন দেখে ময়লা ফেলা শুরু করে। এ ভাবে পুকুর টাকে ময়লার ডাস্টবিন হিসেবে পরিনত করে এবং সে পানি থেকে আবার চায়ের কাপ ধোঁয়া পানি ফেলে দেয় পুকুরে। আবার ওই দোকানে পানি বিক্রি করে সেই পানি বোতল ফেলে দেয় পুকুরে।

চাঁদনী

মূলত আমার এলাকার আশেপাশে জিজ্ঞাসা করার ধারণাই আমার মনে হয় আই পিএইচ পুকুর টি ৩০ থেকে ৩৫ বছর পুরনো । এখানে আগে কোন ময়রা ফেলা হত না। এই জায়গাটা এত পরিমানে অপব্যবহার করা হয়, তাই বিরক্ত হয়ে এলাকাবাসীরাও বলেছিলেন পুকুরটাকে বন্ধ করতে। আর এখন তো বাজারে যারা মাছ বিক্রি করে সেই মাছের পানি বা বরফ এই পুকুরে ফেলে। কিন্তু আগে দেখা গেছে এখানে মানুষ গোসল করত। এখানে বছরে একবার সিটি কর্পোরেশন থেকে মানুষ এসে পরিষ্কার করে। অবশ্য প্রত্যেক বছর হয় না।

সালমান হাওলাদার

আমি পুকুর।

এক সময় আমার জল ছিল স্বচ্ছ, চারপাশ ছিল সবুজে ভরা।

বাচ্চারা আমার জলে খেলত, মাছেরা সাঁতার কাটত, আর মানুষ আমার ধারে বসে শান্তি খুঁজত।

কিন্তু এখন আমি ভীষণ কষ্টে আছি।

আমার বুক ভরে গেছে মানুষের ফেলা প্লাস্টিক, ফোম, জুতা আর বোতলে।

আমার জলে সূর্যের আলো আর ঝিলমিল করে না, ভেসে থাকে শুধু আবর্জনা আর দুর্গন্ধ।

সুরাইয়া আক্তার

আমাদের এলাকায় একটি পুকুর আছে। পুকুর টাকে পুসকুনির পার নামে সবাই চিনে। আগে পুকুরটায় অনেক মাছ ছিল। এখন ও আছে, তবে আগের মতো আর নেই। এখন তেলাপিয়া মাছ বেশি আছে। কারণ কি জানেন? কারন এখন পুকুরটা অনেক ময়লা আবর্জনায় ভরে আছে। তেলাপিয়া মাছ ময়লা পানিতে বাঁচতে পারে। ছোট বেলার কথা মনে পরলে খুব অবাক লাগে কারন পুকুর টা তখন অনেক পরিষ্কার ছিল কিন্তু এখন তার উল্টোটা । মা দাদির কাছে শুনেছি তাদের সময় পুকুরটায় মানুষ গোসল করত। পানিগুলো ছিল পরিষ্কার ও সুন্দর।

চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণকে বোঝা

আমরা শালা টিম এবং কমিউনিটি কানেক্টররা মিলে আমাদের প্রতিবেশী এলাকার প্লাস্টিক এবং অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বোঝার জন্য আমরা একটি স্বলদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র বানানোতে হাত দিই। আমরা পাই এলাকার বর্জ্যগুলো সবশেষে গিয়ে পড়ছে তুরাগ নদীর কোন একটা চর এ। আর কোম্পানিগুলি তাদের প্লাস্টিক পুন:ব্যবহারের জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এসব তথ্য উপাত্ত এবং বাস্তব চিত্র আমাদেরকে ফিল্মী শালা এবং গল্পের শালার কথা মনে করিয়ে দেয় যে, প্লাস্টিক প্যাকেট গুলো দিনশেষে প্রকৃতিতেই বা ল্যান্ডফিলে গিয়েই পড়ছে। শেষে দেখতে পায়, দল বেঁধে প্লাস্টিক আইপিএইচ পুকুরে আসতেছে। এই প্রামাণ্যচিত্রে আমরা প্রশ্ন করি- নদী কি ময়লা ফেলার স্টেশন?, কোম্পানিগুলি তাদের প্লাস্টিক প্রোডাক্ট রিসাইকেল করছে কি? এবং সবশেষে ফিল্ম এর টাইটেল এর সাথে ‘মামা, এত প্লাস্টিক কোত্থেকে আসে?’


দর্শনার্থীরা এত প্লাস্টিক কোত্থেকে আসে? চলচ্চিত্রটি দেখছেন। ফটো-শালা


শিল্প নির্মাণ

আমরা শালা টিম এবং কমিউনিটি কানেক্টররা মিলে কিছু শিল্প নির্মাণ কর্মশালা করি এবং কেউ কেউ ‍ নিজ উদ্যোগেও শিল্পকর্ম তৈরী করেন। আমরা শিল্পকর্ম তৈরীতে প্লাস্টিক দূষণ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দিই। শিল্পকর্মগুলো  উস্তাদ বাঁয়ে প্লাস্টিক ডানে প্লাস্টিক প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়।


শালা টিম এবং কমিউনিটি কানেক্টরদের যৌথভাবে নির্মিত শিল্পকর্ম। ফটো- শালা

শিল্পকর্মটি করেছেন শান্তা ইসলাম। ফটো- শালা

শিল্পকর্মটি করেছেন সুরাইয়া আক্তার। ফটো-শালা


উস্তাদ, বাঁয়ে প্লাস্টিক ডানে প্লাস্টিক

গত ২৯ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শালা নেইবারহুড আর্ট স্পেস ও তার কমিউনিটি কানেক্টরদের আয়োজিত ‘উস্তাদ!!! বাঁয়ে প্লাস্টিক, ডানে প্লাস্টিক প্রদর্শনীটি । প্রদর্শনী থেকে গভীর আত্ন উপলিব্ধ এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি প্লাস্টিকের উৎপাদন বন্ধ ও এর বিকল্প খোঁজার এবং ব্যবহার করার আহ্বান জানানো হয় ।


ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা । ফটো- শালা


প্রদর্শনীর প্রথম দিন কমিউনিটি কানেক্টররা জলবায়ু ন্যায়বিচার সম্পর্কে তাদের জানাশোনা এবং তাদের নিজস্ব এলাকার প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী #BeatPlasticPollution আন্দোলনের তাৎপর্য বোঝার যে অভিজ্ঞতা তা সবার সাথে ব্যক্ত করেন।

 

অংশগ্রহণমূলক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মামা, এত প্লাস্টিক কোত্থেকে আসে? (Where does so much plastic come from?)'-এর প্রথম প্রদর্শনীতে দর্শকরা আমাদের ভবিষ্যতের উপর এই দূষণের প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেন, যার কিছু অংশ আমরা এখনই আমাদের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের উপর অনুভব করতে শুরু করেছি।


আমাদের গণ বিতর্ক ‘প্লাস্টিক দুষণের দায়: জনগণ নাকি রাষ্ট্রের?’ (Who is responsible for plastic pollution: people or the state?)’-এর মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সরকারী ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জবাবদিহিতার অভাব এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধিতে জনসাধারণের জটিলতার দিকে পরিচালিত আচরণগত কারণগুলির সহাবস্থানের বাস্তবতা নিয়ে সমৃদ্ধ আলোচনা হয়। গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটির আলমগীর হোসেন, যিনি প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলার লড়াইয়ে একজন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব, যিনি আন্তঃসরকারি আলোচনা কমিটি (আইএনসি) সম্পর্কে বিশদভাবে অবগত, যা বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণ বন্ধের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, যদিও তারা ২০২২ সালে সেই চুক্তিতে পোঁছানোর জন্য নির্ধারণ করেছিলেন, তার অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান থেকে ভাগ করে নিয়েছেন যে, বিশ্বব্যাপী বাস্তবতাও এমন যে সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত প্লাস্টিক শিল্প থেকে উপকৃত অংশীদারদের আপত্তিতে, এই মাসে জেনেভায় চুক্তিটি করা যায় নি। উভয় পক্ষের বিতর্ক অংশগ্রহণকারীরা প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে  উপাদন এবং সরবরাহ বন্ধ না হলে, আমরা সংহতির ভিত্তি খুঁজে না পেয়ে আলোচনা এবং বিতর্কের একই চক্রে নিজেদের খুঁজে পাব।


চলছে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে গণবিতর্ক। ফটো- শালা


প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন, প্রদর্শনীর পাশাপাশি তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র-  নোংরা রাজা, দ্য স্টোরি অব প্লাস্টিক এবং প্লাস্টিক রিভার: ঢাকা’স ইনফরমাল ইকোনিম- দেখানো হয় । চলচ্চিত্রগুলি আমাদের চারপাশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ বিপর্যয়, প্লাস্টিক উৎপাদন ও রিসাইক্লিং এর অসামঞ্জ্যতা এবং ঢাকার নদীকেন্দ্রীক প্লাস্টিক অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে ।


কমিউনিটি কানেক্টররা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন। ফটো- শালা


প্রদর্শনীর তৃতীয় দিন শালা টিম এবং কমিউনিটি কানেক্টররা তাদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা করেন এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারসহ নানাবিধ কার্য়ক্রম চালিয়ে যাবার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।